মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

পটভূমি

 

 

সংক্ষিপ্ত বর্ণনা/ পটভুমিজেলা পরিষদঃ গাইবান্ধা

 

প্রাচীন বাংলায় তিন ধরনের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলন ছিল। প্রথমত, স্থানীয় সরকার ছিল এক ধরনের প্রশাসন সংগঠন, সেখানে কোন কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের অস্তিত্ব ছিল না। দ্বিতীয়ত, কোন কোন ক্ষেত্রে যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাশালী ছিল সেখানে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্তরুপে কাজ পরিচালনা করত। তৃতীয়ত, কোন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের সংগে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতিযোগীতা চলতো। ধারনা করা হয় বড় রাজ্যগুলোর আবির্ভাবের পর খৃষ্ট পুর্ব ৬ষ্ঠ শতক পর্যন্ত দক্ষিন এশিয়ায় স্থানীয় সরকার দেশ শাসনের মুল ভিত্তির উপর প্রবর্তিত ছিল।

       বৃটিশ শাসন আমলে ১৮৮২ সনে লর্ড রিপন স্থানীয় স্বায়তব শাসনের জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন। প্রস্তাবটি কার্যকর করার জন্য বেঙ্গল কাউন্সিল ১৮৮৫ সনে স্থানীয় স্বায়তব শাসন আইন পাশ করেন। এই আইনে গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়। প্রত্যেকটি জেলায় ডিষ্ট্রিক বোর্ড, মহুকুমা পর্যায়ে লোকাল বোর্ড, কয়েকটি গ্রামের জন্য ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়। ডিষ্ট্রিক বোর্ড বা জেলা বোর্ড কমপক্ষে ৯ জন সদস্য নিয়ে গঠনের প্রস্তাব করা হয়। জেলার আয়তন ও লোক সংখ্যা অনুযায়ী সাধারনত সদস্য সংখ্যা ১৮ থেকে ৩৪ জন হতো।

       ১৮৮৫ সনের আইনে কিছু সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, সরকারী কর্মচারীদের মতে এই আইনের পরিধী পর্যাপ্ত ছিল না । দ্বিতীয়ত, ১৯১৩-১৪ সনে এডওয়ার্ড, ভি লেভিঞ্জু গঠিত বেঙ্গল জেলা প্রশাসন কমিটি স্থানীয় প্রশাসনের পুর্ণ মুল্যায়নের উপর গুরুতব আরোপ করেছিলেন। লেভিঞ্জু রিপোর্টের প্রধান লক্ষ্য ছিল ১৮৮৫ সনের আইনের ত্রুটি সংশোধন করা । এরই ভিত্তিতে ১৯১৯ সনে গ্রামীন স্বায়তব শাসন আইনে লেভিঞ্জুর প্রস্তাব আংশিকভাবে গ্রহণ করা হয়। যার ফলে তা নতুন পদ্ধতি প্রবর্তনের পরিবর্তে পুরানো পদ্ধতিকে সংশোধন করেছিল। এই সংশোধনে বলা হয় সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ নির্বাচিত এবং এক তৃতীয়াংশ মনোনীত হবে। সদস্য নির্বাচনের প্রথম শর্ত তাকে জেলার বাসিন্দা হতে হবে। একুশ বছর বয়সী হতে হবে, চৌকিদারী ট্যাক্স অথবা কর পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার মনোনীত সদস্যদের নিয়োগ করতেন এবং ১৯৩২ সন হতে স্থানীয় সরকারের ভাবপ্রাপ্ত মন্ত্রী কর্তৃক মনোনীত হতো।

       ১৯৮৫ সন থেকে ১৯২০ পর্যন্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িতব পালন করতেন। ১৯২১ সন থেকে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রাদেশিক গর্ভনরের অনুমোদন সাপেক্ষে সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতো। চেয়ারম্যান বোর্ডের নির্বাহী অধিকর্তা ছিলেন।

      ১৯৪৭ সনে ভারত বিভাগের পর, পাকিস্তান সরকার জেলা বোর্ডের কার্যক্রম ও পরিচালনা নীতিগুলো অব্যাহত রেখে ছিলেন। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক সরকারের আবির্ভাবের পর ১৯৫৯ সনের মৌলিক গনতন্ত্র আদেশে এ ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয় এবং পুর্ববর্তী জেলা বোর্ডের নতুন নামকরণ করা হয় জেলা  কাউন্সিল। এই মৌলিক গনতন্ত্রের আদেশের অধীনে জেলা কাউন্সিলকে আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে জেলা কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হন এবং তার উপর সকল নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়। সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট সরকারী ও নির্বাচিত সদস্য দ্বারা জেলা কাউন্সিল গঠিত ছিল। জেলার জনসংখ্যার উপর নির্ভর করে ৩০ থেকে ৫০ জন পর্যন্ত সদস্য সংখ্যা তারতম্য হতো।

 

  বাংলাদেশে স্বাধীনতা লাভের পর মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-৭, ১৯৭২ জারী  করে সকল স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিলোপ সাধন করা হয়। নতুন আদেশে জেলা কাউন্সিলকে জেলা বোর্ড নামে অভিহিত করা হয়্ ।

 

     ১৯৭৬ সনের স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের অধীনে বাংলাদেশে তিন ধরনের গ্রামীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এগুলো হলো ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পর্যায়ে থানা পরিষদ এবং জেলা পর্যায়ে জেলা বোর্ড গুলো বিলুপ্ত করে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়।

      স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ প্রবর্তনের পুর্বে ২২টি জেলায় জেলা পরিষদ বিদ্যমান ছিল। তখন গাইবান্ধা মহুকুমা হিসেবে রংপুর জেলা পরিষদের আওতাধীন ছিল। স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ প্রবর্তনের পর পুরাতন মহুকুমাগুলোকে জেলায় উন্নিত করা হয় । ফলে গাইবান্ধা মহুকুমাসহ ৪২টি মহুকুমা জেলায় উন্নিত হয়। জেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা করার জন্য জেলা পর্যায়ে একটি ফোরাম থাকার প্রয়োজনে জেলা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন, ১৯৮৮ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়। 

       ২০০০ সনের ১৯ নং আইনের মাধ্যমে পুর্ববর্তী জেলা পরিষদ সংক্রান্ত আইন রহিত করে সংশোধনীসহ ইহা পুণঃ প্রনয়নের উদ্দেশ্যে জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ প্রনয়ন করা হয়। এই আইন অনুযায়ী বর্তমানে জেলা পরিষদ পরিচালিত হচ্ছে। 

ছবি


সংযুক্তি